আলম শাইন

আলম শাইন

কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণীবিষয়ক লেখক।

আলম শাইন পুরো নাম শামছুল আলম। ডাকনাম ছিল শাহীন। কিন্তু তাঁর বাবা-মা ‘হীন’ শব্দ উচ্চারণ না করে ‘ইন’ শব্দ উচ্চারণ করতেন। যখন লেখালেখি শুরু করেন তখন শামছুল বাদ দিয়ে ‘আলম শাহীন’ লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ‘আলম শাইন’ লেখা শুরু করেন। তাঁরপর থেকে তিনি নামের মূল অংশ শামছুল আলম বাদ দিয়ে পরিচিত হন আলম শাইন নামে। আলম শাইন বাংলাদেশের যে কয়জন বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর অসংখ্য লেখা দেশ বিদেশে সমাদৃত হয়েছে।

জনাব আলম শাইনের জন্ম বাংলা ১৩৭৭ সালের ৫ মাঘ লক্ষীপুরের রায়পু উপজেলার পূর্ব চরপাতা গ্রামে। বাবা মনির আহমেদ পাটওয়ারী এবং মাতা হোসনেয়ারা বেগম। তিনি রায়পুর এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাসে এমএ পাশ করেন। একাধারে তিনি কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, প্রবন্ধকার, পাখি ও বন্যপ্রাণী বিশারদ। ‘হাজাম’ সম্প্রদায় নিয়ে উপন্যাস লিখে রীতিমত হৈ-চৈ ফেলে দেন। উপন্যাসটি দৈনিক জনকণ্ঠ ও কলকাতার উদ্দালক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং উপন্যাসটি ‘ড. মঞ্জুশ্রী সাহিত্য-২০০৮’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়।

এ যাবত তিনি ১৯টি গ্রন্থ, ১৩০টি রম্যরচনা এবং তাঁর লেখা ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ফিচার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে পাখি নিয়ে প্রকাশিত ফিচারের সংখ্যা ৬০০ টির বেশি। প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ফিচার গুলো প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক কালেরকণ্ঠ, দৈনিক সমকাল, ভোরের কাগজ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, আমাদের সময়, দৈনিক মানবকণ্ঠ, বাংলাদেশের খবর ও আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায়।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে, জলের তলে মন্ত্রিসভা, লাল সংকেতে জলবায়ু, বনবিহারী, ঘুনে খাওয়া বাশি, ঘুষ নিয়ে ঘুষাঘুষি, দৌড়, ওস্তা, মাইট্যা ব্যাংকের গভর্নর, নিষিদ্ধ বাড়ি, সুন্দর বনে দু’রাত, আমি খাই জুতা, নিশিকণ্যা, চিতাশালার মোড়ে, নীরকুটি হ্রদ, লাল ও বালির দ্বীপ।

আলম শাইন

পুরস্কার: হাজম সম্প্রদায় নিয়ে লেখা ‘ওস্তা’ উপন্যাস ২০০৮ সালে ড. মঞ্জুশ্রী সাহিত্য পুরস্কার এ ভূষিত হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রবর্তিত ‘বোস্টন বাংলা নিউজ অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ‘ক্যানভাস অব বাংলাদেশ’ কর্তৃক বিজয় দিবস সন্মাননা-২০১৭ ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও জনসচেতনা বাড়াতে দেশের প্রথম গ্রিনম্যান অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ভূষিত হয়েছেন।